এজেন্সি: কর্মজীবন মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিনের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয় প্রত্যেক কর্মজীবী মানুষকে। কিন্তু শুধু কাজের দক্ষতা বা কঠোর পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি নৈতিকতার বিষয়টিও বড় ভূমিকা রাখে। নৈতিকতা মানে সততা, ন্যায্যতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অটল থাকা। কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতা বজায় রাখা সহজ কথা নয়। নানা পরিস্থিতি, চাপ এবং স্বার্থের সংঘাতে একজন মানুষ বারবার পরীক্ষা দেয়। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারাই আসল চ্যালেঞ্জ। কর্মজীবনে অনেক সময় মানুষ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় যেখানে দ্রুত লাভ, পদোন্নতি বা সুবিধা পাওয়ার জন্য নিয়ম ভঙ্গ বা অনৈতিক পথে হাঁটার প্রলোভন দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে গিয়ে নিয়ম ভেঙে শর্টকাট নেওয়া বা কর্তৃপক্ষকে খুশি করার জন্য অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া অনেকের কাছে সহজ সমাধান মনে হয়। আবার কেউ কেউ নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য সহকর্মীর ক্ষতি করতে দ্বিধা বোধ করে না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের আচরণ শুধু নিজের চরিত্রকেই কলুষিত করে না, কর্মস্থলের পরিবেশকেও বিষাক্ত করে তোলে। নৈতিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ আসে অর্থনৈতিক চাপ থেকে। কর্মজীবী মানুষকে পরিবার চালাতে হয়, অনেক সময় ঋণ শোধ করতে হয় কিংবা সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করতে হয়। এসব কারণে অনেকেই ঘুষ, দুর্নীতি বা অসাধু উপায়কে সহজ পথ হিসেবে বেছে নেয়। একদিকে টিকে থাকার সংগ্রাম, অন্যদিকে সৎ পথে চলার সংকট—এই দ্বন্দ্ব অনেকের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা। বর্তমান সময়ে চাকরির বাজার অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কে কাকে পেছনে ফেলতে পারে, কে দ্রুত পদোন্নতি পেতে পারে, এ নিয়ে অনবরত প্রতিযোগিতা চলে। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়ে অনেকেই নীতিবোধ বিসর্জন দেয়। সহকর্মীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা রটানো, অন্যের কাজ নিজের নামে চালানো বা ইচ্ছাকৃতভাবে কারও কাজ ব্যাহত করা—এসবই নৈতিকতার পরিপন্থী কাজ। তবুও প্রতিযোগিতার চাপে মানুষ এ ধরনের কাজকে স্বাভাবিক মনে করে নেয়।
কর্মক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের চাপও নৈতিকতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এমন নির্দেশ দেন যা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অধস্তন কর্মী তখন দোটানায় পড়ে যায়—নিয়ম মেনে সততার সঙ্গে কাজ করবে, নাকি চাকরি বাঁচাতে বসের অন্যায় নির্দেশ মেনে চলবে। এই দোটানার মধ্যেই প্রকৃত নৈতিকতার পরীক্ষা হয়। অনেকেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের আদেশ পালন করে কারণ চাকরি হারানোর ভয় তাদেরকে আপস করতে বাধ্য করে।