তাঁতশিল্পের দম বন্ধ হচ্ছে আস্তে আস্তে

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না তাঁতিরা। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে নতুন করে সরকারি ঋণ নেওয়ার পথ। এতে অঞ্চলের বেশিরভাগ তাঁতি এখন মহাজন ও দাদন ব্যবসায়ীদের সুদের জালে জড়িয়েছেন। সেই ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। প্রয়োজনের চেয়ে লোকবল কম থাকায় প্রতিষ্ঠানটি তাঁতিদের কাছে পড়ে থাকা ঋণ আদায় ও নতুন ঋণ বিতরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না৷ প্রায় ২০ বছর আগে তাঁত বোর্ড দুটি প্রকল্পে তাঁতিদের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে৷ একটি প্রকল্পে পিটলুম তাঁতের বিপরীতে ১০ হাজার, সেমি অটো তাঁতের বিপরীতে ১৩ হাজার ও বেনারসি তাঁতের বিপরীতে ১৮ হাজার টাকা ও আরেক প্রকল্পে তাঁতি শ্রেণিভেদে কমপক্ষে ৫০ হাজার থেকে আড়াই লাখ ও ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়।
ক্ষুদ্র তাঁতিরা জানান, গত কয়েক বছরে সুতা, রংসহ তাঁতসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁতপ্রতি বিনিয়োগ কয়েক গুণ বেড়েছে। এতে অনেক কাঠখড়ি পুড়িয়ে পাওয়া ঋণের টাকায় তাঁত চালু করতে না পেরে অভাবী হয়ে পড়ছেন তারা। তবে ঋণ গ্রহণকারী তাঁতিরা জানান, ঋণের জন্য আবেদন করার পর ঋণ পেতে কত দিন লাগবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই৷ অনেক সময় দু-এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁত বোর্ড থেকে ঋণ প্রদানের অনুমোদন আসে না৷ এভাবে অনেকেই একসময় ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে হাল ছেড়ে দেন৷ এদিকে নিয়মানুযায়ী, কোনো সমিতির সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা ঋণের ৬০ ভাগ আদায় না হলে ওই সমিতির আর কোনো সদস্যকে নতুন করে আর ঋণ দেওয়া হয় না। সিংহভাগ সমিতির ৬০ ভাগ ঋণ আদায় না হওয়ায় বর্তমানে এই ঋণ দেওয়া বন্ধ রয়েছে।