ভর্তুকি প্রত্যাহার ও জ্বালানি সংকটে রেকর্ড বিদ্যুৎ বিপর্যয়: দাম বাড়ল ১৬.৭ শতাংশ
দেশের সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির বোঝা আরও ভারী করে পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা—তিন পর্যায়েই রেকর্ড পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, জুনের শুরু থেকেই খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে একক ইউনিট হিসেবে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম। এই আকস্মিক ও বড় ধরনের উল্লম্ফনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে সরকারের বিদ্যুৎ খাতের বিপুল ভর্তুকির বোঝা কমানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চলতি ও আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য বিশাল আর্থিক ঘাটতি সামাল দিতেই এই মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে ইরান সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় ইউনিটপ্রতি প্রায় ১২ টাকা ৯১ পয়সায় ঠেকেছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের বড় ফাঁদ তথা ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা অলস বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এই ঘাটতিকে আরও উসকে দিয়েছে। সরকার এই বিশাল লোকসান কমাতে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ভর্তুকি হ্রাসের শর্ত পূরণ করতেই বাজেটের ঠিক আগে তাড়াহুড়ো করে দাম বাড়ানোর এই সহজ পথ বেছে নিয়েছে। তবে সাধারণ ভোক্তা ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নীতিগত ত্রুটি ও ভুল পরিকল্পনার মাশুল সাধারণ মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে শিল্প ও কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় এক ধাক্কায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক বাজারে নতুন করে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জনমনে চরম অসন্তোষের জন্ম দিচ্ছে।
