এক বছরে ময়মনসিংহে সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমেছে লাখের বেশি
ময়মনসিংহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৪৬ জন। ২০২৫ সালে জেলার ২ হাজার ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬৮ জন। চলতি বছর এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮২২ জন।
শিক্ষার্থী কমার পাশাপাশি ঝরে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারাকান্দার পিঠাসূতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু রায়হান জুন থেকে আর স্কুলে যাচ্ছে না। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তাকে ঢাকায় একটি দরজির দোকানে কাজে দেওয়া হয়েছে। একই বিদ্যালয়ে দুই মাস বা তার বেশি সময় ধরে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত ১০।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মিনতী রানী কর বলেন, শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার পেছনে দারিদ্র্য, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং সন্তানদের কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর প্রবণতা রয়েছে। কাজের সন্ধানে অনেক দরিদ্র পরিবার সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যায় বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে গফরগাঁওয়ে এ হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তারাকান্দা, যেখানে ঝরে পড়ার হার ৪ শতাংশ।
শিক্ষার্থী কমার পাশাপাশি শিক্ষকসংকটও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানে প্রভাব ফেলছে। জেলার ২ হাজার ১৪০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৪২টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অর্থাৎ প্রায় ৫৮ শতাংশ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকের ৮৫৩টি পদও শূন্য রয়েছে।
মুক্তাগাছার গোলাবাড়ী ও বিন্নাকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক উপজেলা সদরে সভায় গেলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আগেভাগেই ছুটি দিতে হচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিভাবকদের একটি বড় অংশ সন্তানদের মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। করোনা-পরবর্তী সময়ে এ প্রবণতা আরও বেড়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলেও জানান তিনি।
