পারস্পরিক সম্মানেই শক্তিশালী হোক বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
সাম্প্রতিক কিছু উত্তেজনার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের যে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, তা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংলাপের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও এসব সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য নিয়মিত আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অপরিহার্য। পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অভিন্ন স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনাকে দীর্ঘস্থায়ী না করে দুই দেশের নেতৃত্বের উচিত আস্থা পুনর্গঠন, ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা। প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বের যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল নয়; এর সঙ্গে জড়িত দুই দেশের মানুষের ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনও। তাই সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, অবিশ্বাসের পরিবর্তে আস্থা এবং মতপার্থক্যের পরিবর্তে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথ।
