ঢাকায় প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশাকে গ্রে*প্তার
রাজধানী ঢাকার গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ।
জানা যায়, ২০০৮ সালের একটি প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিককে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন জানান, বিদিশা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
পুলিশ জানায়, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুলশান থানায় বিদিশা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। পরে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
ওসি দাউদ হোসেন বলেন, সাজা হওয়ার পর থেকেই মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর বিদিশা সিদ্দিককে গুলশান থানায় নেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গুলশান থানায় এই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোকজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়। ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলায় বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।
মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি; বরং ‘সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি’ দেন।
