বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টার প্রতিবাদে মেহেরপুর সীমান্তে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত
মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত দিয়ে চারজন নাগরিককে (দুই পুরুষ, এক নারী ও এক শিশু) জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইন বা ঠেলে পাঠানোর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের একটি অপচেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির) কঠোর প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের সতর্ক সহযোগিতায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে পরবর্তীতে ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে ৪৭ বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভারতের ১১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের অধীনস্থ বিজয় মাঠপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা সুপরিকল্পিতভাবে ওই চারজনকে অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালালে, গোয়েন্দা তথ্য ও সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবির টহল দলের সর্বোচ্চ সতর্কতার কারণে বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করা হয়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইতোমধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের এমন আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত প্রটোকলবিরোধী কর্মকাণ্ডের জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং এর পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানোর কার্যক্রমও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ১০৪ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন গেট দিয়ে ওই চারজনকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী তারা বর্তমানে ভারতের বিজয় মাঠপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের হেফাজতেই অবস্থান করছেন। এ ঘটনার পর থেকে মেহেরপুর সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে এবং যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির বিশেষ টহল দল ও গোয়েন্দা নজরদারি অত্যন্ত সতর্কাবস্থায় রয়েছে। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের পুশ-ইনের ঘটনায় সাময়িকভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বিজিবির সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হতে পারেনি। মূলত প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এ ধরনের একতরফা ও বেআইনি পদক্ষেপ দুদেশের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চুক্তির পরিপন্থী, যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও কূটনৈতিক মহলেও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এই পেশাদারিত্ব ও তৎপরতা আবারও প্রমাণিত করেছে যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষা রক্ষায় তারা সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরহস্তে দমন করা হবে।
