চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টারের শুভ উদ্বোধন : ডিজিটাল তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিআইডির নতুন মাইলফলক
প্রচলিত অপরাধসমূহের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে এবং সাইবার স্পেস এখন অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার, ডিপ ওয়েব ও ডার্ক ওয়েবে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা, উগ্রবাদী প্রচারণা এবং স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের মতো জটিল ও বহুমাত্রিক সাইবার অপরাধ ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জনগণের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও অপরাধমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর অধীনে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ সেন্টার, চট্টগ্রাম -এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স, দামপাড়া, চট্টগ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নতুন এই সাইবার পুলিশ সেন্টারের শুভ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এমপি।
সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন অ্যাডিশনাল আইজিপি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত H.E. Mr. Kim Ji-joon এবং সাঈদ আল নোমান এমপি, চট্টগ্রাম-১০। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অ্যাডিশনাল আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, বিপিএম। এ ছাড়াও কোইকা (KOICA) এবং কোরিয়ান দূতাবাসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন KOICA-এর Country Director Jihoon Kim, Ms. KIM Hae-jung, Deputy Chief of Mission, Ms Sujin Kong, Deputy Country Director, KOICA Bangladesh Office এবং Professor Gibum Kim, Project Manager, PMC।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল একনেকে অনুমোদিত এবং ৫৯ কোটি ৮ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় ১০ তলা ফাউন্ডেশনসহ ৪ তলা ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে তদন্ত কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সাইবার অপরাধ তদন্তে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে local ও foreign প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
চট্টগ্রামে সিআইডির অধীনস্থ এই সাইবার পুলিশ সেন্টারের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুততম সময়ে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সাইবার থ্রেট মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে সিআইডির সক্ষমতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
