অমর একুশে শুরু হচ্ছে বইমেলা, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বইমেলার উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন তিনি।
আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।সাধারণত প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হলেও এ বছর নির্বাচনের কারণে দেরিতে শুরু হচ্ছে। এর আগে করোনা মহামারির কারণে ২০২১ ও ২০২২ সালে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজন করতে পারেনি বাংলা একাডেমি।
পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে ব্যবসায়িক ক্ষতির শঙ্কায় মেলায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন প্রকাশকেরা। শেষ মুহূর্তে স্টলভাড়া শতভাগ মওকুফসহ তিনটি দাবি মানায় মেলায় অংশগ্রহণ করছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো।এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রকাশনা তাদের স্টল করেছে। মোট ইউনিট থাকবে ১ হাজার ১৮টি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এবারের অমর একুশে বইমেলার আয়োজনকে পরিবেশ-সুরক্ষা সচেতন ও ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’য় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন বলেন, ‘বইমেলা শেষ পর্যন্ত শুরু হচ্ছে, আমরা সবাই মিলে করতে পারছি, এটাই হচ্ছে বড় কথা। আমরা আশা করব, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পাঠক এসে আমাদের বইমেলা সফল করে দেবেন।’ আর্থিক ক্ষতির শঙ্কার মধ্যেও বইমেলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বইমেলাটা না করার চাইতে অব্যাহত রাখা আমাদের জন্য এটাও একটা সফলতা হিসেবে দেখছি।’
অমর একুশে বইমেলায় শিশুচত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট থাকবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও থাকবে।বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্তসংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য এলাকাজুড়ে পর্যাপ্ত ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।
