৩১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ইভ্যালির রাসেল ও শামীমার নামে মামলা
বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে নতুন করে ৩১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ পণ্য সরবরাহের নাম করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দেশের ই-কমার্স খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা ও আস্থার সংকটের পেছনে ইভ্যালির নাম বারবার উঠে এলেও, এই নতুন মামলাটি প্রতিষ্ঠানটির দায়বদ্ধতা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগকে পুনরায় সামনে এনেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইভ্যালি তাদের লোভনীয় ‘ক্যাশব্যাক’ অফার এবং বিশাল মূল্যছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহককে আকৃষ্ট করেছিল। অনেক গ্রাহক তাদের কষ্টার্জিত অর্থ মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী পাওয়ার আশায় আগাম পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও পণ্য সরবরাহ না করে এবং পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ করতে থাকে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ অর্থের একটি বড় অংশ পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
দীর্ঘদিন ধরেই ইভ্যালির ব্যবসায়িক কাঠামো এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনেও ইভ্যালির সম্পদের চেয়ে দায়ের পরিমাণ অনেক বেশি বলে প্রমাণিত হয়েছে। রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক প্রতারণার মামলা হয়েছে এবং তারা বিভিন্ন সময় কারাভোগও করেছেন। তবে নতুন এই ৩১০ কোটি টাকার মামলাটি গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইভ্যালির ব্যাংক হিসাব এবং অন্যান্য লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে যাতে আত্মসাৎকৃত অর্থের হদিস পাওয়া যায়। ই-কমার্স খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মামলার রায় এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ইভ্যালির ভুক্তভোগী গ্রাহকদের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।
