March 17, 2026

প্রতিবেশীর নম্বরে যাচ্ছিল প্রতিবন্ধী ভাতা: এক বছর পর ইউএনও’র কাছে অভিযোগ

সরকারের দেওয়া প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা সুকৌশলে দীর্ঘ এক বছর ধরে নিজের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে নিচ্ছিলেন এক প্রতিবেশী। ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন ভাতার টাকা না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিতে গেলে অবশেষে বেরিয়ে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতারণার শিকার ওই অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিজের ন্যায্য অধিকার ফেরত পেতে এবং অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার দেশের অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে। এই ভাতার টাকা বর্তমানে সরাসরি সুবিধাভোগীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। কিন্তু ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির ভাতা আসার জন্য ফর্মে যে মোবাইল নম্বরটি যুক্ত করা হয়েছিল, সেটি তার নিজের ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, এক অসাধু প্রতিবেশী জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সেখানে নিজের নম্বরটি যুক্ত করে দেন। এর ফলে গত এক বছর ধরে প্রতি মাসে আসা সরকারি ভাতার সম্পূর্ণ টাকা ওই প্রতিবেশী নিজের অ্যাকাউন্টে পেয়ে তা তুলে আত্মসাৎ করে আসছিলেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও ভাতা না আসার কোনো স্পষ্ট কারণ বুঝতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে স্থানীয় শিক্ষিত কয়েকজন যুবকের সহায়তায় অনলাইনে তথ্য যাচাই করে তিনি জানতে পারেন যে, তার ভাতার টাকা নিয়মিত তোলা হচ্ছে এবং ব্যবহৃত নম্বরটি ওই প্রতিবেশীর।

প্রতারণার এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী কালক্ষেপণ না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন এবং একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগ পেয়ে ইউএনও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইউএনও কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ওই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসাথে আত্মসাৎ করা সম্পূর্ণ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত সুবিধাভোগীকে বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একজন অসহায় প্রতিবন্ধীর টাকা আত্মসাতের এই অমানবিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *