কিডনিতে পাথর থেকে বাঁচতে যেসব খাবার খাবেন না
আমরা যা খাই, সেসব খাবার আমাদের শরীরের সুস্থতা এবং অসুস্থতা- দুইদিকেই প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ আমাদের সুস্থ থাকা কিংবা না থাকা আমাদের খাদ্যাভ্যাসের ওপরেই অনেকটা নির্ভর করে। কিডনিতে পাথর, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর তৈরি হওয়া, খাদ্যের মাধ্যমে অক্সালেট গ্রহণের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়।
পালং শাক, বিট, বাদাম, চকোলেট, চা এবং সয়া পণ্যের মতো খাবারে অক্সালেটের পরিমাণ বেশি থাকে এবং অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে এগুলি মূত্রের মাধ্যমে অক্সালেট নির্গমন বাড়িয়ে দিতে পারে। মূত্রে অক্সালেটের মাত্রা বেড়ে গেলে তা ক্যালসিয়ামের সাথে সুপারস্যাচুরেশন এবং ক্রিস্টালাইজেশন বৃদ্ধি করে।
এগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলার সবসময় প্রয়োজন নেই; বরং, অক্সালেট শোষণ কমাতে এই খাবারগুলো পরিমিত পরিমাণে এবং বিশেষত ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত। শারীরিক প্রবণতা এবং পাথরের গঠন অনুযায়ী নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।
কিডনি পাথর দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধের জন্য একটি বহুমুখী খাদ্যতালিকা প্রয়োজন, যার লক্ষ্য হলো মূত্রের গঠনকে সর্বোত্তম করা। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, সুষম ক্যালসিয়াম গ্রহণ এবং সোডিয়াম ও অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ সীমিত রাখা হলো প্রধান কৌশল।ফল ও শাকসবজির মতো ক্ষার-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ মূত্রের pH বজায় রাখতে এবং সাইট্রেট নির্গমন বাড়াতে সাহায্য করে, যা উভয়ই পাথর গঠনকে বাধা দেয়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এ ধরনের খাবার রাখতে হবে।
খাবারের সময় অক্সালেট-সমৃদ্ধ খাবারের সাথে ক্যালসিয়ামের উৎস মিশিয়ে খেলে অন্ত্রে অক্সালেটের শোষণ কমে যেতে পারে।ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং বিপাকীয় নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থূলতা এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের সাথে পাথর গঠনের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে।
