বৃষ্টির পরে ছুটির মেজাজ, তবু ধোঁয়া ঢাকা গিলে ফেলছে
গতকাল রাজধানীজুড়ে ঝুম বৃষ্টি হয়েছে, আর আজ আবার কাঙ্ক্ষিত ছুটির দিন। প্রকৃতির শীতল স্পর্শ আর কাজের চাপহীন সকালে, পরিষ্কার বাতাসের আশা ছিল, কিন্তু ঢাকার দৃশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত। বৃষ্টির পানি ধুলোবালি কিছুটা কমিয়েছে, তবে আজ সকালেও ঢাকার বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালেও দূষণের তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান উদ্বেগজনক। সাধারণত বৃষ্টি বাতাসের ধূলিকণা ও দূষিত পদার্থ ধুয়ে দেয়। বায়ুর মানের উন্নতি সাময়িক। ঢাকা শহরে বায়ুর মানের উন্নতি স্থায়ী নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত নির্মাণ, কলকারখানার ধোঁয়া এবং ফিটনেস না থাকা গাড়ি ঢাকার আশেপাশে বায়ু দূষণ ঘটায়। গতকালের বৃষ্টি ধুলো কমিয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব রাখেনি। উত্তর ও দক্ষিণ ঢাকার কিছু এলাকায় রাস্তার অবস্থা খারাপ, ড্রেনেজের জন্য খনন কাজ বাতাসের মান দ্রুত আবার খারাপ করে। শুষ্ক মৌসুমে সমস্যা বড় ছিল, এবং বসন্তের শেষভাগে দূষণ এখনও কমেনি। ছুটির দিনে গাড়ি ও গণপরিবহনের চাপ কমে, তবু বায়ু মান সূচক (AQI) উন্নতি দেখায় না।
বাতাসের খারাপ অবস্থা মানুষকে প্রভাবিত করছে। শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত মানুষদের জন্য বাতাস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ডাক্তাররা বলছেন, ছুটির দিনে বাইরে গেলে মাস্ক পরা দরকার। সাইনাস বা অ্যালার্জি সমস্যায় অতিরিক্ত সতর্কতা নিতে হবে। পরিবেশবিদরা বলছেন, কেবল বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে দূষণ কমানো সম্ভব না। দূষণ কমাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দরকার, এবং দূষণের উৎসগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ছুটির দিনেও অস্বাস্থ্যকর বাতাস একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছে যে, পরিবেশ রক্ষায় আরও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।
