ফায়ার সার্ভিসে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: ১৯৭ পদে আবেদনের সুযোগ
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সম্প্রতি একটি বড় ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যা সরকারি চাকুরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৯টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৯৭ জন দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশের জানমাল রক্ষা এবং যেকোনো দুর্যোগে প্রথম সাড়াদানকারী এই সংস্থায় ক্যারিয়ার গড়া অত্যন্ত সম্মানজনক এবং সেবামূলক হিসেবে বিবেচিত। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিয়োগযোগ্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, মেকানিক, কারিগরি সহকারী, স্টোর সহকারী, দপ্তরি এবং অফিস সহায়কসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ। প্রতিটি পদের জন্য আলাদা আলাদা শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রার্থীদের আবেদন করার আগে গুরুত্বসহকারে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে দেখা যায়, পদভেদে ন্যূনতম এসএসসি থেকে স্নাতক পাস পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি পদগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ট্রেড কোর্স বা ডিপ্লোমা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের মাঠপর্যায়ের কাজের ধরন বিবেচনায় শারীরিক যোগ্যতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। আবেদনকারীর বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে, তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বা অন্যান্য বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারি বিধি মোতাবেক বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং প্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা টেলিটকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। অনলাইন আবেদন ফরমে প্রার্থীর নাম, পিতা ও মাতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং শিক্ষাগত তথ্যের পাশাপাশি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও ডিজিটাল স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। আবেদন সাবমিট করার পর টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে অফেরতযোগ্য পরীক্ষার ফি জমা দিয়ে আবেদনের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয়। সঠিক সময়ের মধ্যে ফি জমা না দিলে আবেদনটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
নির্বাচন পদ্ধতি হিসেবে প্রার্থীদের প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য পদ অনুযায়ী ব্যবহারিক বা শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। সবশেষে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করা হবে। সফলভাবে নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী আকর্ষণীয় বেতন ও ভাতাদিসহ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। যারা সাহসিকতা ও ত্যাগের মনোভাব নিয়ে দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ। যেকোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা প্রতারক চক্রের হাত থেকে সতর্ক থাকার জন্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
