চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ: উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে আতঙ্ক
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলায় শিশুদের মধ্যে হামের মতো লক্ষণের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৃত শিশুটি তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিল। স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যদিও এখনো নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি এটি হাম কি না, তবে উপসর্গগুলো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় শিশুদের মধ্যে উচ্চ তাপমাত্রা এবং শরীরে ছোপ ছোপ লাল দাগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। মৃত শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে যাতে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা যায়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া বা পুষ্টির অভাব এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
এদিকে, একের পর এক শিশুর অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের শরীরে এমন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা জরুরি। অবহেলা বা ঘরোয়া চিকিৎসার কারণে পরিস্থিতি অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
চট্টগ্রামের এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকাগুলোতে যেখানে সচেতনতা কম, সেখানে মাইকিং করে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে এই মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। বর্তমানে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো রোগের উৎস শনাক্ত করা এবং আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলাজুড়ে বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম কাজ করছে।
