গুমের শিকার হয়েও মেলেনি ক্ষতিপূরণ: সেনাবাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে আমান আযমী
সাবেক সেনাপ্রধান গোলাম আযমের মেজো ছেলে ও সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তকৃত সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ আট বছর ‘আয়নাঘর’ খ্যাত গোপন বন্দিশালায় গুম থাকার বিষয়ে সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়ে তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানান যে, দীর্ঘ আটটি বছর তার জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হলেও এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলেও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার আর্থিক বা নৈতিক ক্ষতিপূরণ তিনি পাননি। তার মতে, রাষ্ট্রীয় এই বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি যে সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে না।
জিজ্ঞাসাবাদে আমান আযমী বর্ণনা করেন কীভাবে ২০১৬ সালে তাকে তার পরিবারের সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তাকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি রেখে বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। তিনি দাবি করেন, বিনা বিচারে তাকে আটকে রাখা শুধু তার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনই ছিল না, বরং তা ছিল সামরিক শৃঙ্খলা ও আইনের চরম পরিপন্থী। তদন্ত কমিটির কাছে তিনি তার বন্দিদশার খুঁটিনাটি তুলে ধরেন এবং কারা সরাসরি এই অপহরণ ও গুম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের শনাক্ত করতে সহায়তা করেন। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি যে মানসিক ট্রমা এবং শারীরিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন, তার জন্য তিনি বারবার রাষ্ট্রীয় বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমান আযমী তদন্ত কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তার মুক্তি পাওয়ার পর আশা ছিল সেনাবাহিনী অন্তত তার প্রতি হওয়া অন্যায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ কোনো ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বাস্তবে তিনি কোনো সদুত্তর বা সহমর্মিতা পাননি। তিনি মনে করেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে যে কমিশন গঠন করেছে, সেখানেও তিনি নিজের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। আযমীর এই বক্তব্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা গুমের শিকার অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের পথও প্রশস্ত করতে পারে।
