April 11, 2026

তিন দিনের বিফল প্রতীক্ষা: জ্বালানির খোঁজে মধ্যরাতেও পাম্পে মানুষের উপচে পড়া ভিড়

টানা তিন দিন শহরের এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরেও মেলেনি প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর চরম ভোগান্তির পর আজ সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। গত কয়েক দিন ধরে তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি। কেউ মোটরসাইকেল নিয়ে, কেউ বা ড্রাম হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন এই আশায় যে, আজ অন্তত খালি হাতে ফিরতে হবে না। যানবাহন চালকদের চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হলেও তাদের কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা। অনেকের মতেই, গত তিন দিন অফিসে যাওয়ার পথে বা কাজের মাঝে বারবার চেষ্টা করেও তেল জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। তাই আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যত রাতই হোক আর যত দেরিই হোক, তেল নিয়েই তারা বাড়ি ফিরবেন। এই অনিশ্চয়তা আর ভোগান্তির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অনেক কম থাকায় তারা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে তেল আসতে দেরি হওয়ায় পাম্পগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তেলের এই ঘাটতিকে কেন্দ্র করে শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, আর যারা ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করেন তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে তেলের জন্য মানুষের এই হাহাকার এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ভিড় সামলাতে অনেক জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর দাবি, কেবল আশ্বাসে কাজ হবে না, অতি দ্রুত তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। রাত যত বাড়ছে, পাম্পগুলোর সামনে ভিড় ততই ঘনীভূত হচ্ছে, যেন এক ফোঁটা তেলের জন্য এক অনিশ্চিত যুদ্ধে নেমেছে সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *