February 22, 2026

পে স্কেলে গ্রেড সংস্কারের বড় আভাস

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় বেতন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সভাটি রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির কারণে স্থগিত হলেও নতুন বেতন কাঠামোতে গ্রেড সংস্কারের বিষয়টি এখন আলোচনার তুঙ্গে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থগিত হওয়া এই সভার নতুন তারিখ দ্রুতই চূড়ান্ত করা হবে।

গ্রেড পুনর্গঠন নিয়ে তিন ধরনের প্রস্তাব

নবম পে স্কেলের সুপারিশ তৈরিতে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড নিয়ে তিনটি ভিন্নধর্মী প্রস্তাবনা জমা পড়েছে—

১. ২০টি গ্রেড বহাল রাখা : একটি পক্ষ মনে করছে, বর্তমানের ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে শুধুমাত্র জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা উচিত।

২. গ্রেড ১৬টিতে নামিয়ে আনা : বেতন বৈষম্য কিছুটা লাঘব করতে গ্রেড সংখ্যা ২০টি থেকে কমিয়ে ১৬টিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৩. ১৪টি গ্রেডের আমূল পরিবর্তন : সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবটি হলো গ্রেড সংখ্যা ১৪টিতে নামিয়ে আনা। অনেক সদস্য মনে করছেন, এতে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য একবারে দূর করা সম্ভব হবে এবং এটি একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে স্থগিত হওয়া পরবর্তী বৈঠকেই গ্রেড সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

পে স্কেলের সিদ্ধান্ত এবং তার বাস্তবায়ন কবে নাগাদ শুরু হবে তা নির্ভর করবে কমিশনের সুপারিশ, উচ্চপর্যায় পর্যালোচনা ও সংশোধিত বাজেট অনুমোদনের ওপর। ফলে কর্মচারীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবায়নের গতি-উভয়ের মধ্যে রাজনৈতিক সময়সূচিও একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *