জ্বালানি সংকটে নাজেহাল রাজধানীবাসী: পাম্পগুলোতে আজও গ্রাহকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা
রাজধানীর জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছেই না। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় আজও রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় এবং যানবাহনের দীর্ঘ সারি। সকাল থেকেই মগবাজার, তেজগাঁও, ধানমণ্ডি ও প্রগতি সরণি এলাকার পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন রাস্তার মূল অংশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অনেক এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়ায় তারা গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সংবলিত বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ায় সাধারণ চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও জরুরি সেবার যানবাহনগুলো সময়মতো তেল না পাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফলে সাধারণ চালকদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটছে এবং অনেক স্থানে পাম্প কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। অন্যদিকে, ডিলারদের দাবি—ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা নিয়মিত কোটা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানীর পরিবহন মালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে, যা সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না, ফলে রাজধানীর পাম্পগুলোতে তেলের জন্য এই হাহাকার ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা আজও অব্যাহত রয়েছে।
