March 12, 2026

নওগাঁয় ফাল্গুনের স্বস্তির বৃষ্টি: মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকের

বসন্তের শুরুতেই নওগাঁর তপ্ত প্রকৃতিতে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দিল ফাল্গুনের এক পশলা বৃষ্টি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই অকাল বর্ষণ যেন আশীর্বাদ হয়ে নেমে এসেছে জেলার কৃষকদের জীবনে। গত কয়েক দিন ধরে রোদের তীব্রতা আর ধুলোবালিতে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই আকাশের মেঘভাঙা বৃষ্টি পুরো জনপদকে শীতল করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং দুপুরের দিকে ঝিরঝিরে বৃষ্টির সাথে সাথে কিছু এলাকায় মাঝারি ধরনের বর্ষণ লক্ষ্য করা গেছে। এই বৃষ্টি কেবল জনমনে স্বস্তিই ফেরায়নি, বরং কৃষিপ্রধান নওগাঁ জেলার ফসলের মাঠগুলোতেও নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

বিশেষ করে বোরো ধানের আবাদে এই বৃষ্টির উপকারিতা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে জেলার মাঠগুলোতে বোরো ধান রোপণের কাজ শেষ হয়ে চারাগুলো বাড়তে শুরু করেছে। এই সময়ে বৃষ্টির পানি চারাগুলোর দ্রুত বৃদ্ধিতে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, সেচের জন্য ডিজেল বা বিদ্যুৎচালিত পাম্পের ওপর যে অতিরিক্ত নির্ভরতা ছিল, এই বৃষ্টির ফলে তা কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। এতে একদিকে যেমন চাষিদের উৎপাদন খরচ কমবে, অন্যদিকে মাটির নিচের পানির স্তরের ওপর চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে।

শুধু বোরো ধানই নয়, আমের মুকুলের জন্যও এই বৃষ্টি শাপে বর হয়ে দাঁড়িয়েছে। নওগাঁর সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর এলাকার বিস্তৃত আম বাগানগুলোতে এখন মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। টানা খরা আর ধুলোবালির কারণে অনেক সময় মুকুল শুকিয়ে ঝরে যায় অথবা পোকার উপদ্রব বাড়ে। ফাল্গুনের এই বৃষ্টি মুকুলগুলোকে ধুয়ে পরিষ্কার করে দিয়েছে, যা পরাগায়নে সাহায্য করবে এবং আমের ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এ ছাড়াও রবি শস্য যেমন সরিষা ও শাকসবজির খেতেও এই বৃষ্টির পানি পজিটিভ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে, সেদিকে কৃষকরা সতর্ক থাকেন। বৃষ্টির পর রোদের প্রকোপ বাড়লে ধানের গোড়ায় কোনো রোগবালাই হয় কি না, তা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সচেতন করছেন। সব মিলিয়ে ফাল্গুনের এই অসময়ের বৃষ্টি নওগাঁর গ্রামগঞ্জে খুশির জোয়ার নিয়ে এসেছে। তপ্ত দুপুরের স্বস্তি আর ফসলের মাঠে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখে কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তাদের সোনালি স্বপ্নের পরিচর্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *