নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ শপথের ডাক দিলেন মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তারা সবাই নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছেন। সম্প্রতি একটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। মির্জা ফখরুলের মতে, এই নতুন বাংলাদেশ হবে এমন এক রাষ্ট্র যেখানে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং কোনো ধরনের স্বৈরাচারী মানসিকতার স্থান হবে না।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব জাগরণই মূলত নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা মনে করেন, কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারই এখন সময়ের দাবি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের জন্য শুভ হবে না। তাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ।
মির্জা ফখরুল দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সুশৃঙ্খল থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখা এখন সবচেয়ে জরুরি। দেশের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
সবশেষে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্ধকার কেটে আলোর পথ উন্মোচিত হয়েছে। এখন সময় দলাদলি ভুলে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষও আশা করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর এই ইতিবাচক পরিবর্তন ও শপথের মাধ্যমে দেশে প্রকৃত স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
