ফেরিঘাটে অব্যবস্থাপনা ও অরক্ষিত পন্টুন: পদ্মায় বাসডুবির নেপথ্যে যে কারণসমূহ
পদ্মা নদীতে সাম্প্রতিক বাসডুবির ঘটনা ফেরিঘাটগুলোর চরম অব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীনিরাপত্তার ভয়াবহ ঘাটতিকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। ফেরিঘাটের পন্টুনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা এবং সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকা এই দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, পন্টুনের ওপর যানবাহন রাখার ক্ষেত্রে যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা ছিল, তা পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিল। বিশেষ করে ঢালু পন্টুন এবং পিচ্ছিল উপরিভাগের কারণে বাসটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ ধরনের স্পর্শকাতর স্থানে কোনো গতিরোধক বা শক্তিশালী রেলিং না থাকা কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
দুর্ঘটনার পেছনে ঘাটের ফিটনেসবিহীন অবকাঠামো ছাড়াও দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের গাফিলতি স্পষ্ট। ফেরিতে যানবাহন ওঠানামার সময় যে ধরনের তদারকি প্রয়োজন, তা অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় না। অনেক সময় ফেরি এবং পন্টুনের মধ্যে থাকা ফাঁকা অংশটি সঠিকভাবে ঢেকে দেওয়া হয় না, যা বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করে। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্যবোঝাই করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। প্রতিকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় তড়িঘড়ি করে যানবাহন পারাপারের চেষ্টা করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় রূপ নেয়। পদ্মার প্রবল স্রোত এবং পন্টুনের নড়বড়ে অবস্থার সংমিশ্রণ এই দুর্যোগের ঝুঁকিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবলমাত্র চালকের অসতর্কতাকে দায়ী করে এ ধরনের দুর্ঘটনার দায় এড়ানো সম্ভব নয়। পন্টুনের ডিজাইন যদি আধুনিক এবং সুরক্ষিত না হয়, তবে যান্ত্রিক ত্রুটি বা সামান্য ভুলে যেকোনো সময় বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। পন্টুনগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা এবং উদ্ধারকারী সরঞ্জাম বা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার অভাব উদ্ধারকাজকেও বিলম্বিত করে। যথাযথ তদারকি ও নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ফেরিঘাটগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই অব্যবস্থাপনা দূর করতে না পারলে এবং পন্টুনগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোখা কঠিন হবে।
