June 1, 2026

অতিরিক্ত গরমে শুধু শরীর নয়, মনও ক্লান্ত হয়ে পড়ে

তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। প্রচণ্ড গরমে নিজর শরীরকে সুস্থ রাখার নানা উপায় খুঁজছে সবাই। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সে অনুযায়ী চলার চেষ্টাও করছে। তবে খুব কম লোকই বুঝতে পারে যে তাপ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রা মেজাজের পরিবর্তন থেকে বিরক্তি, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং মানসিক জরুরি অবস্থা পর্যন্ত মস্তিষ্ককে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করতে পারে।

মানবদেহে তাপের প্রভাব পর্যায়ক্রমে ঘটে। এটি তাপ এক্সপোজার দিয়ে শুরু হয়, যা ক্লান্তি এবং তারপর হিট স্ট্রোকের দিকে অগ্রসর হতে পারে। যদি শরীরের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে এটি শেষ পর্যন্ত শক হতে পারে, যা জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব তাপের তীব্রতা এবং তাপের সংস্পর্শে আসার সময় উভয়ের ওপর নির্ভর করে।

শরীর তার মূল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সংগ্রাম করলে মস্তিষ্ক চাপের মধ্যে পড়ে। এই অবস্থাকে মস্তিষ্কের চাপ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। যা শারীরিক এবং মানসিক অবসাদ সৃষ্টি করে, যার ফলে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়, মানুষ নিজেকে ভুলে যেতে পারে। কোনো কাজই তখন সঠিকভাবে শেষ করতে পারে না।

তাপপ্রবাহ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা পরিবর্তন করতে পারে। হেলথ সায়েন্স রিপোর্ট-এ প্রকাশিত ২০২৩ গবেষণায় দেখা গেছে যে উচ্চ তাপমাত্রা সেরোটোনিনের মাত্রা কমাতে পারে। এটি একটি হরমোন যা মেজাজ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেরোটোনিনের মাত্রা কমে গেলে তা খিটখিটে, অধৈর্য এবং মানসিকভাবে সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। এসময় সামাজিক মিথস্ক্রিয়া আরো চ্যালেঞ্জিং হতে পারে এবং চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কমে যায়।

গরম আবহাওয়ার অন্যতম লক্ষণীয় প্রভাব হলো ঘুমের ব্যাঘাত। রাতে ঘুমিয়ে পড়া এবং ঘুমিয়ে থাকা কঠিন হয়ে যায়, যার ফলে বিশ্রাম সম্পূর্ণ হয় না। এভাবে ঘুমের অভাবে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং মানসিক অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। যাদের ইতিমধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা রয়েছে, এসময় সে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *