জামালপুর সীমান্ত বিবাদ: বিজিবি-বিএসএফের বাকবিতণ্ডার পর অবশেষে মিলল সেই বৃদ্ধের পরিচয়
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের তিলকপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি করা সেই মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধের পরিচয় অবশেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) জোরপূর্বক ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাতে তীব্র বাধা দেয়, যার ফলে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত ও স্থানীয়দের সহায়তায় জানা যায় যে, ওই বৃদ্ধের নাম মো. আমজাদ আলী (৬৫)। তিনি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার উত্তর ধানশাইল গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। প্রায় এক যুগ ধরে তিনি নিখোঁজ এবং মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাতে দেখা যায়, ভারতের ঝাড়খণ্ডের আমপারাম বিএসএফ ক্যাম্পের জোয়ানরা আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবি তিলকপুর ক্যাম্পের জোয়ানরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি টের পেয়ে বিএসএফের এই অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশব্যাকের প্রচেষ্টায় বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তুমুল বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে বিজিবি স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, সঠিক পরিচয় এবং নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
অবশেষে আমজাদ আলীর পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে সীমান্তে এসে তাঁকে নিজেদের লোক বলে শনাক্ত করেন। ঝিনাইগাতীর ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামও ওই বৃদ্ধের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করেছেন। বিজিবির জামালপুর ৩৫ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া ও পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। বৃদ্ধের পরিচয় মেলার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যকার সাময়িক উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
