August 5, 2026

ইউনূসকে নিয়ে ঢাকায় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনটি এখন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর জনতা তৎকালীন গণভবনের দখল নেয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে এই ভবনটিকে স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার সকাল ৯টায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। এই জাদুঘর পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ উন্মোচন করবে। এই জাদুঘর আমাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ আর সাহসকে জাতীয় স্মৃতিতে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস স্বাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ চক্র দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি। আজকের এই দিনটি দেশের জন্য যুগান্তকারী মাইলফলক। সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বীর শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে শুধু ইতিহাস সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গঠনের অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন আমন্ত্রিত অতিথি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, পথ হারালে এই জাদুঘরই জাতিকে নতুন পথ দেখাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশ গঠনের প্রেরণা জোগাবে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেবো। আমাদের চিন্তায় যদি কোনো গাফিলতি আসে, এখান থেকেই তার ঠিকানা খুঁজে আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করবো।’

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও এ জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। কারণ, এখানে বহু বছরের পুরোনো ইতিহাস নয়; গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট দলিল, স্মারক, নিদর্শন এবং মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের পর আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে এর বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার লক্ষ্যেই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ৬ আগস্ট থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের আগেই অনলাইনে টিকিট বুকিং করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *