August 5, 2026

৭ মাসের সন্তানের দাবিতে আদালতে ১১ বছর বয়সী মা, তারপর যা ঘটলো

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, তারপর বিয়ের পিঁড়িতে। অথচ কনের বয়স ১১ বছর, আর বরের বয়স ২০ বছর। জুই নামে এই কনে ও বর শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার ঘটনাটি আড়ালেই ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ওদের শিশু দাম্পত্যে জন্ম নেওয়া সাত মাসের সন্তান নিয়ে বিরোধ আদালতে গড়ানোর পর। ঘটনাটি ঢাকার।

পুত্র সন্তানটিকে কেড়ে নিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী-শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন ১৩ বছর বয়সি ওই মা। ১ জুলাই ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইডে অফিসে অভিযোগ দেওয়া হয় শাকিল ও তার মা আছমার বিরুদ্ধে। বাচ্চাকে উদ্ধারের আরজি জানান মা। অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের ১৬ জুলাই লিগ্যাল এইড অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেদিন তারা হাজির হননি। এজন্য লিগ্যাল এইড অফিসার সায়েম খান শিশুটিকে উদ্ধার করতে ঢাকার চকবাজার থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। ২৭ জুলাই শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। ২৮ জুলাই পরে লিগ্যাল এইড অফিসার সায়েম খান শিশুটি তার মায়ের কাছে থাকবে মর্মে জানান। পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছিলেন ৪ আগস্ট মঙ্গলবার। এদিন ফেইসবুক-টিকটক ব্যবহার না করার শর্তে বাচ্চাকে মায়ের কাছে থাকার সিদ্ধান্ত দেন লিগ্যাল এইড অফিসার।

মঙ্গলবার ঢাকার লিগ্যাল এইড অফিসার সায়েম বলেন, “আইন অনুযায়ী আপাতত ৭ মাস বয়সি শিশুটি তার মায়ের সঙ্গেই থাকবে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত। কিশোরী মাকে ফেসবুক ও টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষকেই ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব নিয়ে বাবার করা আবেদন বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেই আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই হবে।”

সায়েম খান তার পর্যবেক্ষণে বলেন, “সামাজিক অবক্ষয় চরম পর্যায়ে চলে এসেছে, এটা বলতেই হয়। কারণ বাচ্চারা সোশাল মিডিয়ায় এমনভাবে আসক্ত হচ্ছেন, মা-বাবা বিষয়টি সঠিকভাবে নজর না রাখার কারণে এ ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের সবার দেখা উচিত, আমাদের সন্তানরা সোশাল মিডিয়াতে কী করছে। তারা বায়না করলে আমরা ফোন তুলে দিচ্ছি। পরবর্তীতে সে কি করছে, কাদের সাথে মিশছে, কোনো ধরনের অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে কি না—আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে। এসমস্ত কারণে কিন্তু এ ঘটনা ঘটেছে। এটা চাইলেই কিন্তু আগে রোধ করা যেত।”

এদিন শুনানির আগে ওই বাচ্চার মা ও বাবাকে ডেকে একান্তে কথা বলেন সায়েম খান। বাচ্চাটার মাকে লিগ্যাল অফিসার বলেন, “বাচ্চাকে নিয়ে ফেসবুক, টিকটক করা তোমার কি ঠিক হয়েছে? এটা মানুষ নেগেটিভলি নিয়েছে।”
আর বাবার উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাচ্চার মাকে নিয়ে মিডিয়াতে কেন নেগেটিভ বিষয় উপস্থাপন করলে? এটা কিন্তু সাইবার সুরক্ষা আইনে পড়ে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *