August 10, 2026

বাংলাদেশে ভরা মৌসুমেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ইলিশ

বাংলাদেশের বাজারে ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে জাতীয় মাছ ইলিশ। এ দেশের এই জাতীয় মাছটি অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি ও চার ধাপের হাতবদলে ভরা মৌসুমেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আহরণ খরচ বাড়ার অজুহাতে বাজারজুড়েই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ফলে ইলিশ এখন সাধারণ বাঙালির খাদ্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে কেবল বিত্তবানদের পাতে উঠছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫০০ টাকায়। আর দেড় কেজি আকারের মাছের দাম রাখা হচ্ছে ৪৫০০ টাকা। এছাড়া জাটকা ও ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায়।

জিজ্ঞেস করলে ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেল, বরফ ও দাদনের খরচ বাড়ার অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। অনেকে মাছ ফ্রিজ করে জমা রাখছেন অধিক লাভের আশায়। অন্যদিকে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে আগের বছরের সঞ্চিত হিমায়িত মাছ। দীর্ঘদিন হিমায়িত রাখা এসব মাছ খেলে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি থাকে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।

অভিজ্ঞজনরা বলছেন, পরিবেশদূষণ ও প্রজনন ব্যাহত হওয়ায় দিন দিন ইলিশের আকৃতি ছোট হয়ে আসছে। একসময়ের সাড়ে চারশ গ্রাম গড় ওজনের ইলিশ এখন তিনশ গ্রামে নেমে এসেছে। নদীর নাব্যতাসংকট ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্র ভেঙে পড়েছে।

গত দুই বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছর দেশে ইলিশ আহরণ হয়েছিল ৫ দশমিক ৩২ লাখ টন। উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে তা পাঁচ লাখ টনে নেমে এসেছে। আমদানি কমে যাওয়ায় প্রায় বন্ধের মুখে পড়েছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম।

এ অবস্থায় গবেষকরা পরামর্শ দিচ্ছেন ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য সুরক্ষা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের। বলছেন, অভয়াশ্রম রক্ষা, অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

অবশ্য গত ৬ আগস্ট কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ঘটেছে এ সময়ের এক অস্বাভাবিক ঘটনা। পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের একটি মাছধরার ট্রলারের জালে একসঙ্গে ধরা পড়ে ৪৬ মণ ইলিশ। একবার জাল ফেলেই মিলেছিল ২২০০টি ইলিশ। স্থানীয় আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *