August 24, 2026

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আজ বঙ্গভবনে উঠবেন

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার (২৩ আগস্ট) বঙ্গভবনে উঠবেন। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

‘বঙ্গভবন’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও বাসভবন। এই স্থাপনাটি দেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। বঙ্গভবনের রয়েছে শতাব্দীকালের বর্ণাঢ্য ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৫ সালের ০১ সেপ্টেম্বর পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হলে নবসৃষ্ট প্রদেশের প্রধান শাসনকর্তা তথা লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কার্যালয় ও বাসভবনের প্রয়োজনে বঙ্গভবনের যাত্রা। তখন এর নাম ছিল ‘গভর্নমেন্ট হাউজ’।

কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গভবনের ২ নম্বর গেটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল ‘গার্ড অব অনার’ মঞ্চে নিয়ে যাবে। সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকশ দল গার্ড অব অনার দেবে। এ পর্ব শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে তাঁর কার্যালয়ে যাবেন।

গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। শপথের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শনিবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন-বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সেখানে তিনি লেখেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সব বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অকৃত্রিম দেশপ্রেমের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি- স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

তিনি লিখেন, এই পবিত্র জাতীয় স্মৃতিসৌধ- আমাদের জাতীয় গৌরব, আত্মত্যাগ, ঐক্য ও দেশপ্রেমের চিরন্তন স্মারক, যা চিরকাল দেশপ্রেম ও দেশ গঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীরউত্তম এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করছি। তাঁদের দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আমাদের জাতীয় ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

তিনি আরও লিখেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের আদর্শ এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব-এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

সবশেষে তিনি লিখেন, মহান আল্লাহতায়ালা বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত দান করুন এবং প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ওপর অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বর্ষণ করুন। আমিন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। এরপর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি উদয় পদ্মবৃক্ষের চারা রোপণ শেষে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *