August 31, 2026

ঢাকায় আট জোনে চলবে আলাদা রংয়ের ই-রিকশা, নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে

ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচল করতে দেওয়া হবে না। ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। এক জোনের ই-রিকশা যাতে অন্য জোনে চলাচল করতে না পারে, সে ব্যবস্থাও রাখা হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা বিন ওসমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট আটটি জোনে ই-রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। কোন ই-রিকশা কোন সড়কে চলবে, তা সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। ই-রিকশা শুধু অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচল করবে।

তিনি বলেন, ঢাকায় দুই ও চার যাত্রী বহন করতে পারে এমন ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশাকে ঢাকা শহরে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। জেলা শহর ও গ্রামীণ এলাকায় দুই, চার ও ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।

ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, নীতিমালাটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে অথবা যত দ্রুত সম্ভব, এটি জারি করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় ই-রিকশা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অথবা সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদও লাগবে।

সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা ই-রিকশার নিবন্ধন দেবে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ই-রিকশা তৈরির কারখানাগুলোকেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। বুয়েট বা কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি করতে হবে। কারখানার জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।

চার্জিং ব্যবস্থার বিষয়েও নীতিমালায় শর্ত রাখা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। এসব চার্জিং পয়েন্টের জন্যও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি মান মেনে তৈরি ই-রিকশাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে। নীতিমালা জারি হলে ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *