বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবৈধ বাণিজ্যে নতুন রূপ: পণ্যের বিনিময়ে আসছে মাদক
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে চোরাচালানের ধরন বদলে গিয়ে তা এখন ‘নার্কো-কারেন্সি’ বা মাদকের মাধ্যমে লেনদেনের রূপ ধারণ করেছে, যেখানে বাংলাদেশি পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে ইয়াবার মতো মারাত্মক মাদকে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও একাধিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এই সীমান্ত বাণিজ্য আর একমুখী নেই; বাংলাদেশ থেকে একই ট্রলারে সিমেন্ট, চাল, ডাল, তেল ও ওষুধ মিয়ানমারে যাচ্ছে এবং ফেরার পথে একই নৌযানে করে নিয়ে আসা হচ্ছে মাদকের চালান। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মাছ ধরার নৌকা কিংবা সাধারণ ট্রলারে মাছ ও সরঞ্জামের নিচে লুকিয়ে এসব ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে, যেখানে মিয়ানমারের মংডু, বুথিডং ও রাথিডং জেটি থেকে পণ্য ছাড়ানোর পর অবশিষ্ট পাওনা অর্থ মাদকে সমন্বয় করে বাংলাদেশে এনে নগদ টাকায় রূপান্তর করা হয়। একটি ট্রিপে প্রধান মাঝিকে প্রায় তিন লাখ টাকা এবং সহকারীদের ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে এই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ইয়াবাকে অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করায় এর সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রমাণ মেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে; ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ইয়াবা জব্দের পরিমাণ প্রায় ৯০.৫৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৩৫ লাখেরও বেশি ট্যাবলেটে। এই পরিস্থিতিতে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড টেকনাফসহ সীমান্তজুড়ে রাডার, ড্রোন ও নাইট-ভিশন ক্যামেরার মতো প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়িয়ে নদীপথে সন্দেহজনক নৌযানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে এই অপতৎপরতা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়।
