সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি, তবু বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানি অব্যাহত
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয় হলেও নিয়মিত বৈঠক ও সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির পরও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি। সর্বশেষ রোববার হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। এর আগে আগস্টে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় তারা মিয়া (২০), জুনে একই জেলার দত্তগ্রামে মুজিব আলী (২০), মে মাসে লালমনিরহাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে বা নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালে ৩৪ জন, ২০২৪ সালে ৩০ জন, ২০২৩ সালে ৩১ জন, ২০২২ সালে ২৩ জন এবং ২০২১ সালে ১৮ জন বাংলাদেশি সীমান্তে প্রাণ হারান। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ বা অন্য কোনো আইনভঙ্গের ঘটনা ঘটলেও প্রতিকারে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। তারা প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি এবং সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফের নিয়মিত বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ১৭ আগস্ট ফেনীর বিলোনিয়া জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে ধারাবাহিক প্রাণহানি প্রমাণ করছে, শুধু বৈঠক ও প্রতিশ্রুতি নয়, সীমান্তে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি জরুরি।
