রেশন থেকে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড, এবার এক ডিজিটাল পরিচয়ের পরিকল্পনা
সরকারি সহায়তা ও নাগরিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে নানা ধরনের কার্ড ও পরিচয়পত্র ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রেশন কার্ড, ভিজিএফ, ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড। অন্যদিকে নাগরিক পরিচয় প্রমাণে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও টিআইএনের মতো পৃথক নথি ব্যবহার করতে হয়। এই বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থা সহজ ও সমন্বিত করতে সরকার ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা এক-আইডি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জন্মের পর থেকেই একজন নাগরিককে একটি স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয় দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবায় সারা জীবন ব্যবহার করা যাবে। তবে এক পরিচয়ের ধারণার আগে বাংলাদেশে সরকারি সহায়তা বিতরণে কার্ড ব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে চালু থাকা রেশনব্যবস্থা স্বাধীনতার পরও অব্যাহত ছিল। রেশন কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ কম দামে চাল, গমসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য পেতেন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় রেশন ব্যবস্থায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও খাদ্যশস্য পাচার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে রেশনব্যবস্থা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে কার্যত বিলুপ্ত হয় এবং এর পরিবর্তে কাজের বিনিময়ে খাদ্য বা অর্থ দেওয়ার বিভিন্ন কর্মসূচি চালু হয়। কাবিখা, কাবিটা ও টেস্ট রিলিফের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের সহায়তা অব্যাহত থাকে। সময়ের সঙ্গে সরকারি সহায়তার ধরন ও লক্ষ্যগোষ্ঠী পরিবর্তিত হওয়ায় নতুন নতুন কার্ডও যুক্ত হয়েছে। এখন সরকারের লক্ষ্য হলো এসব বিচ্ছিন্ন পরিচয় ও সেবা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় এনে নাগরিক সেবা আরও সহজ, কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করা।
