August 21, 2026

বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় রদবদল আসছে, আলোচনায় যারা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্তির পর মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় রদবদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্তত তিনটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পরিবর্তন এবং কয়েকজন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার কথা আলোচিত হচ্ছে।

সরকার ও বিএনপির দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল শনিবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে সাচিং প্রু জেরী ও শামীম কায়সার লিংকন জানিয়েছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা এ ধরনের আলোচনা শুনেছেন। কিন্তু সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাদের এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে প্রায় দুই মাস ধরে মন্ত্রণালয়টি পূর্ণ মন্ত্রী ছাড়াই চলছে। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন মন্ত্রণালয়টির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন।

এদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর পদটি শূন্য হলো। এ কারণে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা চলছে। সেখানে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের জন্য আলোচনায় রয়েছে। তাকে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে আনা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নামও আলোচনায় এসেছে। তবে মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরের বিষয়ে সম্প্রতি তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তিনি বিব্রত।

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর কয়েকজন নেতাকে টেকনোক্রেট কোটায় যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপন। সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও দু-একজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে ‘বঞ্চিত’ হিসেবে আলোচিত কয়েকজন নেতাকেও এবার মন্ত্রিসভায় মূল্যায়ন করা হতে পারে। তাঁদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম আলোচনায় রয়েছে।

দলীয় নেতাদের একটি অংশের মতে, বিগত সরকারের সময়ে হামলা, মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হলেও যারা এখনো মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি, পুনর্গঠনের সময় তাদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

সব মিলিয়ে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নতুন দায়িত্ব পাচ্ছেন এবং কোন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হচ্ছে, তা প্রজ্ঞাপন জারির পরই নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *