October 7, 2026

২৬ মাস পর কব*র থেকে চিত্রনায়ক শান্ত খান ও তার বাবার ম*রদে*হ উত্তোলন

দাফনের ২৬ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো চিত্রনায়ক শান্ত খান ও তার বাবা সেলিম খানের মরদেহ। বুধবার (৭ অক্টোবর) আদালতের নির্দেশে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের কবর থেকে তাদের মরদেহ উঠানো হয়।

দুই বছর দুই মাস দুই দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য তোলা হয়। এর আগে তদন্ত ছাড়াই তাদের দাফন করা হয়েছিল। এদিন সকাল ৮টায় প্রথমে সেলিম খান পর তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

​এর আগে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসক আবেদনটি অনুমোদন করার পর বুধবার মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

সেলিম খান লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা ‘শাপলা মিডিয়া’র স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

ছেলে শান্ত খান একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি ‘প্রেম চোর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘টুঙ্গীপাড়ার মিয়া ভাই’, ‘বিক্ষোভ’ ও ‘বুবুজান’।

​২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার সময় সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান একটি গাড়িতে ছিলেন। তাঁরা চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের চাপিলা গ্রামের হাফেজিয়া মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও, পরে পাশের বাগড়া বাজার এলাকায় তাদের গাড়ি আটকে যায়। সেখানে জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান নিহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সে সময়ের পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে তাঁদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর গ্রামের খান বাড়িতে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আদালত কবর থেকে মরদেহ দুটি তুলে ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *