March 13, 2026

কৃষকের হাতবদলে বাজারে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পটল

যশোরের বারীনগর পাইকারি মোকামে ৫৬ টাকা কেজি দরে পটোল বিক্রি করছেন মাঠের কৃষক। ব্যাপারী, ফড়িয়া ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অন্তত পাঁচবার হাতবদল হয়ে সেই পটোল পৌঁছাচ্ছে ঢাকার মানুষের রান্নাঘরে। প্রতিবার হাতবদলে দাম বাড়ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। এতে কৃষকের ৫৬ টাকার পটোল ভোক্তাকে ১০০ টাকার বেশি দরে কিনতে হচ্ছে।

হাতবদলের পাশাপাশি দাম বাড়ার পেছনে ন্যায্যমূল্যে কৃষকের সার-কীটনাশক ওষুধ না পাওয়া, পৌরসভার নামে রাস্তায় চাঁদাবাজি, পাইকারি বাজারে শ্রমিকদের বকশিশ, রাজনৈতিক কর্মীদের দালালি, হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়, সবজি প্যাকেজিংয়ের বস্তা, ডিজেল ও শ্রমের মূল্য বেশি হওয়াও অন্যতম কারণ।

বারীনগর পাইকারি মোকাম থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে সবজি পাঠানো হয়। এ বাজারে পটোলের কেজি ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা, প্রতিটি লাউ ১৫ থেকে ২০ টাকা (আকারভেদে), মুলার কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা, লাল বেগুন ১৭ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে পাইকারি বেচাবিক্রি হয়। এদিন বাজারে ওঠা সবজির ৯০ শতাংশই ছিল পটোল।

কৃষকের কাছ থেকে পটোলসহ অন্যান্য সবজি কিনছেন হাটের ব্যাপারীরা। শ্রমিক দিয়ে সেই সবজি ধুয়ে প্যাকেজিং করে ট্রাকে সাজানো হচ্ছে। এদিন হাটে অন্তত ১৫টি ট্রাকে সবজি বোঝাই করে গন্তব্যে পাঠানো হয়।

হাটের ব্যাপারী আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আজ আমি ৭ হাজার কেজি সবজি কিনেছি। ৯০ ভাগ পটোল আর লাউ। এই অল্প সবজি কিনতে হাটের খাজনা দিতে হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা। পরিবহন খরচ ১৮ হাজার। ওজন কাটা, বস্তা, শ্রমিক, হাটের দালালি—সব মিলিয়ে খরচ আছে আরও সাড়ে ১৭ হাজার। ৭ হাজার কেজি সবজি যশোর থেকে ঢাকায় পাঠাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা; অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ৮ টাকা করে খরচ পড়ছে। তারপরে আমাদের লাভ করতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *