শরীরচর্চা করলেই কি প্রোটিন শেক জরুরি? জেনে নিন কারা খাবেন
প্রোটিন শেক এখন অনেকেরই রোজের খাদ্যতালিকার অংশ। শরীরচর্চা থেকে পেশি গঠন— নানা কারণে এই পানীয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দুধ, ডিম বা উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে তৈরি প্রোটিন পাউডার জলে কিংবা দুধে মিশিয়ে এই পানীয় তৈরি করা হয়। তবে সকলেরই কি প্রোটিন শেক খাওয়া প্রয়োজন? বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাবার থেকেই সাধারণত শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া সম্ভব।
রোজ কতটা প্রোটিন প্রয়োজন?
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য দৈনিক প্রায় ০.৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। অর্থাৎ, ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের দিনে প্রায় ৫৬ গ্রাম প্রোটিন দরকার।
ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, সয়া, ডাল ও বিভিন্ন বীজ থেকে সহজেই প্রোটিন পাওয়া যায়। তাই খাবার থেকে প্রয়োজন মিটলে আলাদা করে প্রোটিন শেক খাওয়ার দরকার সাধারণত হয় না।
কারা খেতে পারেন প্রোটিন শেক?
ক্রীড়াবিদ ও শরীরচর্চাকারীরা: যাঁদের নিয়মিত কঠোর ব্যায়াম করতে হয় বা পেশি গঠন করতে চান, তাঁদের প্রোটিনের চাহিদা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
যাঁদের খাবারে প্রোটিন কম: খাদ্যতালিকা থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন না পেলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে প্রোটিন শেক নেওয়া যেতে পারে।
অস্ত্রোপচার বা গুরুতর আঘাতের পর: ক্ষত সারানো ও শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য কারও কারও অতিরিক্ত প্রোটিনের প্রয়োজন হতে পারে।
বয়স্ক ব্যক্তিরা: বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির ক্ষয় ঠেকাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন জরুরি। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে প্রোটিন শেক নেওয়া যায়।
ভ্রমণের সময়: দুর্গম এলাকায় খাবার থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া কঠিন হলে এটি বিকল্প হতে পারে।
প্রোটিন শেক কেনার আগে কী দেখবেন?
১. উপাদান: হুই ও কেসিন দুধ থেকে তৈরি। দুধে অ্যালার্জি থাকলে বা ল্যাকটোজ সহ্য না হলে উপযুক্ত বিকল্প বেছে নিতে হবে।
২. প্রোটিনের পরিমাণ: প্রতি পরিবেশনে কতটা প্রোটিন রয়েছে, তা দেখে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য বেছে নিন।
৩. চিনি ও ক্যালরি: অতিরিক্ত চিনি, ক্যালরি ও অপ্রয়োজনীয় সংযোজক রয়েছে কি না, তা খেয়াল করুন।
৪. উৎস: ডিম, সয়া, মটর বা অন্য উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে তৈরি প্রোটিন পাউডারও পাওয়া যায়। নিজের খাদ্যাভ্যাস ও সহনশীলতা অনুযায়ী বেছে নিন।
