August 11, 2026

সদ্য পদত্যাগকারী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দুদকে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ

বাংলাদেশের সদ্য পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে বেনামী প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতি ও প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দেয়া এই লিখিত অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও অভিযুক্ত করেছে।

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ কর্পোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংকের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটি আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে দাবি করা হয়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটি মূলত একটি রুগ্ণ ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছিল। শুরুতে এর ঋণসীমা ছিল ১০০ কোটি টাকা। পরে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই তা বাড়িয়ে প্রথমে ২০০ কোটি এবং পরবর্তীতে ৫০০ কোটি টাকা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ঋণের প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকের নির্বাহী বোর্ডের সভায় এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঋণ পরিশোধের জন্য ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কয়েক দফায় তাগাদাপত্র ও চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও ঋণগ্রহীতারা কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি।

অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(এ), ৩৪ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(১)(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ কর্পোরেট শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী বলেন, এস আলমের ঋণ অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যাংকের একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলার তথ্য সরবরাহের অংশ হিসেবে দুদকে ঋণ অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো অভিযোগ হাতে পাননি। কমিশন পুনর্গঠিত হওয়ার পর এ ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *