মুস্তাফা মনোয়ার: শিল্পের স্পর্শে জাতির মানস রাঙানোর রূপকার
বাংলাদেশ তথা বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে মুস্তাফা মনোয়ার একটি কালজয়ী নাম, যিনি নিজের বহুমাত্রিক সৃজনশীলতা দিয়ে এ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁকে যথাযথভাবেই শিল্পের স্পর্শে জাতির মানসকে রাঙিয়ে তোলার প্রধান পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চিত্রশিল্প, থিয়েটার, টেলিভিশন নাটকের বিকাশ এবং বিশেষ করে বাংলাদেশে পাপেট্রি বা পুতুলনাচ শিল্পকে আধুনিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি কেবল ক্যানভাসে ছবি আঁকেননি, বরং পাপেট এবং শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে এ দেশের শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ, শিক্ষা এবং চিন্তার জগৎকে দারুণভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। টেলিভিশনে তাঁর সৃজনশীল উপস্থাপনা এবং শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মনে গভীর ও ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
অধ্যাপক মুস্তাফা মনোয়ারের এই দীর্ঘ ও গৌরবময় শিল্পযাত্রাকে সম্মান জানাতে সম্প্রতি এক বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁর অনন্য জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করে বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার এমন একজন সাধক, যিনি শিল্পকে কেবল গুটিকয়েক মানুষের বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে রাখেননি, বরং একে সাধারণ মানুষের মননে পৌঁছে দিয়েছেন। সংকীর্ণতা ও কুসংস্কারমুক্ত একটি আধুনিক সমাজ গঠনে তাঁর শিল্পভাবনা সর্বদা এ জাতিকে পথ দেখাবে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে যেকোনো জাতীয় সংকটে সংস্কৃতির শক্তিকে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, তা তিনি নিজস্ব মেধা দিয়ে বারবার প্রমাণ করেছেন। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর সৃষ্টিশীল দর্শন পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, দেশের শিল্প-সংস্কৃতির প্রকৃত বিকাশ ঘটাতে হলে মুস্তাফা মনোয়ারের দেখানো শিল্পচর্চার পথ অনুসরণ করা অপরিহার্য।
