দখল-দূষণে বি*পর্যস্ত ময়মনসিংহের নদ-নদী
দখল, শিল্পবর্জ্য ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের চাপে ময়মনসিংহ বিভাগের নদ-নদী ও জলতন্ত্র ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। ২০২৪ সালের প্রশাসনিক তালিকা অনুযায়ী, বিভাগের চার জেলায় নদ-নদীর সংখ্যা ১৭৯টি। এর বেশির ভাগই শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে পড়ছে এবং অনেক নদী হারিয়ে যাওয়ার পথে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বিভাগের নয়টি নদ-নদীকে সবচেয়ে সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভালুকা ও ত্রিশালের শিল্পাঞ্চলে টেক্সটাইল, ডাইং ও সিরামিক কারখানার বর্জ্যে লাউতি খাল, খিরু ও বানার নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা দূষিত পানি সেচে ব্যবহার করায় ফসল ও মাটির গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দূষণের কারণে নদীর মাছ ও জলজ প্রাণীও প্রায় বিলুপ্ত। নিবন্ধিত বহু জেলে পেশা বদলে রিকশা-ভ্যান চালানো বা দিনমজুরির কাজে যুক্ত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, দূষিত পানির সংস্পর্শে চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
এদিকে ২০১৯ সালের তালিকায় ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ৩,৩৮৫ জন অবৈধ নদী দখলদারের তথ্য পাওয়া যায়। নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে ১,৩৮৬ কোটি টাকার একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি সীমিত।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা ফেরাতে ২,৭৬৩ কোটি টাকার প্রকল্প চললেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এর মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর উৎসমুখ সচল করা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, শিল্পবর্জ্য শোধন এবং নদী, ভূগর্ভস্থ পানি ও প্লাবনভূমিকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
