March 23, 2026

সোনা এখনই কিনবেন নাকি অপেক্ষা করবেন!

দেশের বাজার সোনার দাম বাড়তে বাড়তে প্রতি ভরি তিন লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের চার সপ্তাহের যুদ্ধের ডামাডোলে সেই দাম কমে আড়াই লাখের নিচে নেমেছে। দাম আরও কমবে, তেমন ইঙ্গিত মিলছে। কারণ, বিশ্ববাজারে গত কয়েক দিনে সোনার দাম বেশ কমে গেছে। আরও কমবে, সেই পূর্বাভাসও রয়েছে।

দেশে গত বৃহস্পতিবার দুই দফায় সোনার দাম ভরিতে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা কমায় জুয়েলার্স সমিতি। ওই দিন বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৭৩২ ডলার। পরদিন ৪ হাজার ৫০০ ডলারের নিচে নামলেও দেশে ঈদের ছুটির কারণে দাম সমন্বয় করেনি সমিতি।

আজ সোমবার বেলা একটায় নিউইয়র্ক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ২৭০ ডলার কমে ৪ হাজার ১৫২ ডলারে দাঁড়ায়, যা কিনা গত ১১ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। তার মানে গত শুক্রবার থেকে এখন পর্যন্ত চার দিনে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৫৮০ ডলার। শুধু ডলারের বিনিময় হার দিয়ে হিসাব করলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনায় দাম কমার কথা ভরিপ্রতি ২৩-২৪ হাজার টাকা।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমলেও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি এখনো দাম কমাচ্ছে না, জানতে চাইলে জুয়েলার্স সমিতির সোনার দাম নির্ধারণ কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম আজ বলেন, ‘ঈদের ছুটির কারণে আমরা সোনার দাম সমন্বয় করছি না। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে আমরা সমন্বয় করব। বিশ্ববাজারে সোনার দর নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলে অবশ্যই দাম কমবে। কারণ, আমরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের স্বার্থই দেখি।’

বিশ্ববাজারে সোনার দামে অনেক দিন ধরেই অস্থিরতা চলছে। সাধারণত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় সোনার দাম বাড়ে। যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময়েও সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে আছে। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে সোনার দাম পড়তে শুরু করে।

চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেবে। আর শুরু করা হবে সবচেয়ে বড়টি দিয়ে!’ তারপর পাল্টা হুমকি দিয়ে ইরান বলেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিশানা করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত সব জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা করবে ইরানি সামরিক বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *