April 17, 2026

প্রতিকূল আবহাওয়া ও দরপতনে দিশেহারা কক্সবাজারের ৪২ হাজার লবণচাষি

কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণের বাম্পার ফলন হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অকাল বৃষ্টির জোড়া আঘাতে চরম সংকটে পড়েছেন প্রায় ৪২ হাজার লবণচাষি। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও খোলাবাজারে লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চাষিরা তাঁদের উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। মাঠ পর্যায়ে লবণের ন্যায্য মূল্য না থাকায় অনেক চাষি উৎপাদিত পণ্য মজুত করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে আকস্মিক বৃষ্টিপাত। লবণের মাঠ যখন উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে, তখনই বৃষ্টির পানিতে পচে যাচ্ছে স্তূপীকৃত লবণ, যার ফলে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। লবণ উৎপাদন মৌসুমে সাধারণত রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার প্রয়োজন হয়, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ের বৃষ্টিতে লবণের মাঠ এখন কাদার স্তূপে পরিণত হয়েছে।

বিসিকের (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় বেশি থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক প্রান্তিক চাষি এনজিও বা দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে লবণের আবাদ করেছিলেন, এখন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সেই ঋণের বোঝা তাঁদের কাঁধে চেপে বসেছে। স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে লবণ আমদানির খবরের কারণে স্থানীয় বাজারে দেশি লবণের চাহিদা কৃত্রিমভাবে কমানো হয়েছে, যা এই দরপতনের অন্যতম কারণ। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের লবণ শিল্পকে বাঁচাতে চাষিরা সরকারের কাছে বিশেষ প্রণোদনা, লবণের নায্য মূল্য নির্ধারণ এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক লবণ উৎপাদনকারী এই অঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার স্থায়ীভাবে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *