August 22, 2026

গ্যাস সং*কটে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল শিল্প

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেল ও ফার্নেস তেলের ব্যবহার বেড়েছে। ইস্পাত, ওষুধ ও বস্ত্রসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করলেও অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে গিয়েছে।  

সরকারি তিন তেল বিপণন কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের তথ্য অনুযায়ী, অগাস্টের প্রথম ১৫ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডিজেল ও ফার্নেস তেলের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সময়ে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফার্নেস তেলের চাহিদাও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি আরও তীব্র হয় মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে, বিপরীতে চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্পকারখানাগুলোকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, অগাস্টের প্রথম ১৫ দিনে দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫৩৮ টন, যা গত বছরের অগাস্টের দৈনিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২২% বেশি। ফার্নেস তেল বিক্রি হয়েছে ৬৬ হাজার ৬৮৮ টন, দৈনিক গড় হিসেবে যা প্রায় ৭৬% বেশি।

শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখা গেলেও এতে উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিএসআরএমের এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের পরিবর্তে ডিজেল ও ফার্নেস তেল ব্যবহারের কারণে তাঁদের জ্বালানি ব্যয় প্রায় চার গুণ হয়েছে।

ওষুধশিল্পেও একই চিত্র। শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় ডিজেল জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ প্রায় তিন গুণ বেশি। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালানোর কারণে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বাড়ছে। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে এবং শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় চাপ তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *