অবিশ্বাস্য জয়: যে মুহূর্তে বাংলাদেশ নিশ্চিত হলো বিজয় তাদেরই হাতে
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর জন্য ঠিক কোন মুহূর্তে বাংলাদেশ দল আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছিল, তা নিয়ে এখন ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে চলছে টানটান বিশ্লেষণ। ম্যাচের শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে হলেও, দ্বিতীয় ইনিংসে রান তাড়া করতে নেমে মিডল অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তবে টাইগাররা প্রকৃত অর্থে জয়ের সুবাতাস পেতে শুরু করে ১৮তম ওভারে, যখন জিম্বাবুয়ের মূল স্ট্রাইক বোলারের ওভারে দুটি বিশাল ছক্কা ও একটি চারের সৌজন্যে প্রয়োজনীয় রানের ব্যবধান এক লাফে অনেকটা কমে আসে। ওই ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর পর ক্রিজে থাকা দুই ব্যাটারের শরীরী ভাষায় যে আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছিল, তাতেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে জয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। চাপের মুখেও স্নায়ু ধরে রেখে বড় শট খেলার এই সক্ষমতাই বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়।
গ্যালারিতে থাকা হাজারো দর্শকের গগনবিদারী চিৎকার আর ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস তখন বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে, খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল। ফিল্ডিং সাইডের কিছুটা এলোমেলো পরিকল্পনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস হওয়ার সুযোগকে পূর্ণভাবে কাজে লাগায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে ১৯তম ওভারের প্রথম বলে যখন একটি মাপা শটে জয়সূচক রানের সমীকরণ এক অঙ্কে নেমে আসে, তখনই ড্রেসিংরুমের সবাই জয়ের উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। ম্যাচের শেষভাগে বোলারদের ওপর ব্যাটারদের পূর্ণ আধিপত্যই ছিল এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত হওয়ার পর অধিনায়ক স্বীকার করেন যে, ১৮তম ওভারের সেই আক্রমণাত্মক মেজাজই তাদের মনে বিশ্বাস জাগিয়েছিল যে ম্যাচটি তারা জিততে যাচ্ছেন। এই জয়টি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতার এক অনন্য প্রতিফলন হয়ে থাকবে।
