May 7, 2026

উচ্চ প্রবৃদ্ধির মাঝেও ‘সস্তা শ্রমের’ বৃত্তে বাংলাদেশ: জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে কর্মজীবী ​​মানুষ

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো ‘স্বল্প-মজুরি অর্থনীতির’ বৃত্ত থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গত কয়েক দশকে জিডিপি (GDP) এবং মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হলেও, সাধারণ শ্রমিকদের প্রকৃত আয় সেই একই হারে বৃদ্ধি পায়নি। বরং, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমজীবী ​​মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার মান ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে। বক্তাদের মতে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের পথে থাকলেও, সস্তা শ্রমনির্ভর শিল্প কাঠামোর কারণে প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত—তৈরি পোশাক শিল্প—বৈশ্বিক বাজারে এখনো মূলত সস্তা শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিযোগিতায় টিকে আছে। উচ্চমূল্যের পণ্য এবং কারিগরি উৎকর্ষের অভাবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে না; আর ঠিক এ কারণেই নিয়োগকর্তারা মজুরি বৃদ্ধিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এই সংকট উত্তরণে কেবল তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভর না করে তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল এবং চামড়া শিল্পের মতো বহুমুখী খাতগুলোর বিকাশ ঘটানো অপরিহার্য। সভায় জোর দিয়ে বলা হয় যে, প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে হলে ন্যূনতম মজুরি কাঠামোকে আধুনিকায়ন করা এবং কর্মক্ষেত্রে একটি উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায়, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই, আলোচকরা আহ্বান জানান যেন দেশের উন্নয়ন কৌশলে সস্তা শ্রমের পরিবর্তে দক্ষ জনশক্তি এবং উচ্চ মজুরির ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *