September 7, 2026

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনীদের তালিকা থেকে বাদ পড়লেন বাংলাদেশের আজিজ খান

সম্পদের পরিমাণ কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত অর্থ ও বাণিজ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন ফোর্বসের সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের মুহাম্মদ আজিজ খান।

২০১৮ সালে প্রথমবার যুক্ত হওয়ার পর এবারই প্রথম তিনি দেশটির শীর্ষ ধনীদের তালিকা থেকে ছিটকে গেলেন। ২০১৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন মুহাম্মদ আজিজ খান ও তাঁর পরিবারকে সিঙ্গাপুরের ৩৪তম ধনী পরিবার হিসেবে এবং ২০২০ সালে মুহাম্মদ আজিজ খানকে ৩৭তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

ফোর্বসের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, আজিজ খানের নিট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলার কমে এখন ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকায় জায়গা না পেলেও বৈশ্বিক শতকোটিপতিদের তালিকায় তিনি অবস্থান ধরে রেখেছেন। বৈশ্বিক ধনীদের তালিকায় ১ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে তার বর্তমান অবস্থান ৩ হাজার ৩৩২তম।

গত ২০২৪ ও ২০২৫-টানা দুই বছর আজিজ খানের সম্পদের পরিমাণ ১১০ কোটি ডলারে অপরিবর্তিত ছিল। ফোর্বসের ২০২৫ সালের তালিকায় সিঙ্গাপুরের ৪৯তম এবং বিশ্বের ২৭৯০তম ধনী ছিলেন তিনি। এর আগে সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় তিনি ২০২৪ সালে ৪৩তম, ২০২৩ সালে ৪১তম এবং ২০২২ সালে ৪২তম অবস্থানে ছিলেন। বৈশ্বিক বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় ২০২২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে তার নাম রয়েছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, বন্দর, ফাইবার অপটিকস ও আবাসন খাতে সামিট গ্রুপের বিস্তৃত ব্যবসা রয়েছে। ২০১৯ সালে জাপানি প্রতিষ্ঠান জেরার কাছে সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের ২২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেন মুহাম্মদ আজিজ খান। দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে বসবাস করা এই ব্যবসায়ী দেশটির স্থায়ী বাসিন্দা।

বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার ছেলে আজিজ খান একজন সেনা কর্মকর্তার ছেলে। সিঙ্গাপুরের আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ না থাকায় তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন। ৭০ এর দশকে মুহাম্মদ আজিজ খানের ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়। ১৮ বছর বয়সী আজিজ খান ১৯৭৩ সালে পিতার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার করে কয়েকজন বন্ধু মিলে পুরান ঢাকায় জুতা তৈরির ব্যবসা শুরু করেন। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ) স্নাতকোত্তরের ছাত্র। বাবার কাছ থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকার পুঁজি থেকেই তার জীবনের এই প্রসার। তিনি বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

আজিজ খানের নেতৃত্বে সামিট গ্রুপ বিশ্বের অনেক বহুজাতিক সংস্থার সাথে অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে অন‍্যতম জিই, আইএফসি এবং ওয়ার্সেসিলা। তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেন। মুহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী এবং তিনজন পরিবারের সদস্যকে আইসিআইজে দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে, যাতে ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সিঙ্গাপুরের ঠিকানা ব্যবহার করে ছয়টি অফশোর কোম্পানি পরিচালনা করা হচ্ছে। মুহাম্মদ আজিজ খানের একজন ভাই অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল ফারুক খান ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এবং সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী। মুহাম্মদ আজিজ খান তিনি আঞ্জুমান আজিজ খান এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ। তাদের তিনজন কন্যাসন্তান রয়েছেন যাদের নাম আয়েশা, আদিবা ও আজিজা। আয়েশা খান হচ্ছেন সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের সিইও।

এদিকে ফোর্বসের ২০২৬ সালের তালিকা অনুযায়ী, ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনীর স্থান ধরে রেখেছেন মেটার সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিন। তালিকায় ১৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে হংকং লিওং গ্রুপের খেক লেং বেং ও তার পরিবার এবং ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ফার ইস্ট অর্গানাইজেশনের রবার্ট ও ফিলিপ এনজি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *