পরিবেশ বিপর্যয়: সাতকানিয়ায় সরকারি বনাঞ্চল কেটে অবৈধ সড়ক নির্মাণ, হুমকির মুখে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের হাজার হাজার গাছ কেটে এবং পাহাড় সাবাড় করে অবৈধভাবে একটি নতুন সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের মদদে এবং পরিবেশগত কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে, যা মূলত ওই অঞ্চলের সংরক্ষিত পাহাড়ি বনের বুক চিরে চলে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি নির্মাণের ফলে মাদার ট্রি বা শতবর্ষী গর্জন, সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান প্রাকৃতির গাছপালা একবারে সমূলে উপড়ে ফেলা হয়েছে। স্কেভেটর ও ভারী এক্সকাভেটর ব্যবহার করে দিন-রাত নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ঢাল ধসে পড়ার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবেশবাদীদের মতে, এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল তার আদি রূপ হারাতে বসেছে।
এই বেআইনি সড়ক নির্মাণের ফলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতকানিয়ার এই গভীর বনাঞ্চলটি মূলত বুনো হাতি, হরিণ, অজগরসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক করিডোর এবং নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এভাবে বনের বুক চিরে রাস্তা তৈরি করায় এই বন্য জীবজন্তুগুলো এখন স্থায়ীভাবে বাসস্থান হারাচ্ছে, যার ফলে তারা খাদ্যের সন্ধানে প্রায়শই লোকালয়ে হানা দিচ্ছে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদার ট্রি কাটার কারণে মাটির ক্ষয়রোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি বনের ভেতর এই সড়ক নির্মাণের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পরিবেশ ও বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মাটি কাটার যন্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় জনগণের দাবি, কেবল কাগজে-কলমে মামলা না করে এই বনাঞ্চল ধ্বংসের পেছনে থাকা মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে প্রকৃতির বুক চিরে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর সাহস না পায়।
