June 16, 2026

চোখের ছানি প্রতিরোধে যেসব অভ্যাস জরুরি

বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের প্রধান কারণ হলো চোখে ছানি পড়া, যা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষকে আক্রান্ত করে। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাসগুলোও এই রোগের বিকাশ ও বিস্তারে বড় প্রভাব ফেলে। এমনকিছু অভ্যাস রয়েছে যা দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে এবং দীর্ঘ বার্ধক্য পর্যন্ত ছানির ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।

চোখের স্বাভাবিক লেন্স ঘোলা হয়ে গেলে ছানি হয়, যার ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, আলোর ঝলকানিতে সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং চিকিৎসা না করালে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। যদিও বয়স সবচেয়ে সাধারণ ঝুঁকির কারণ, তবে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের দ্বারা ছানি প্রভাবিত হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বিতও হতে পারে। জেনে নিন চোখের ছানি পড়া রোধে কী করবেন-

ছানির অনেক স্বীকৃত ঝুঁকি রয়েছে। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মির দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শ। রৌদ্রজ্জ্বল দিন হোক বা না হোক, প্রতিবার বাইরে যাওয়ার সময় সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায় হলো এমন সানগ্লাস পরা যা ১০০% UVA এবং UVB রশ্মি প্রতিরোধ করে। চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি সরাসরি চোখে প্রবেশ করা সৌর আলোর পরিমাণ সীমিত করে সুরক্ষা দেয়।

আমাদের খাবার সরাসরি আমাদের চোখকে প্রভাবিত করে। ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন ফার্মাকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার, যেমন পালং শাক ও কেলের মতো পাতাযুক্ত সবুজ শাক, কমলা ও আমের মতো উজ্জ্বল রঙের ফল এবং ভিটামিন সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে তা ফ্রি র‍্যাডিকেলকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে, যা ধীরে ধীরে চোখের লেন্সের ক্ষতি করতে পারে। স্যামনের মতো মাছেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের চোখে ছানি পড়ার সম্ভাবনা দুই থেকে তিন গুণ বেশি। ধূমপানের ফলে রক্তে বিষাক্ত যৌগ প্রবেশ করে, যা চোখের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং লেন্সের অক্সিডেটিভ ক্ষতিকে ত্বরান্বিত করে। যেকোনো বয়সে ধূমপান ত্যাগ করা একজন ব্যক্তির চোখ এবং স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে একটি।

উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলো ছানি পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে দৃঢ়ভাবে সম্পর্কিত। উদাহরণস্বরূপ, রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে লেন্স প্রসারিত হয় এবং ঘোলাটে হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা, রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রাখুন।

সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো একজন প্রশিক্ষিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের দ্বারা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে ছানি, গ্লুকোমা ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো অন্যান্য রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগেই শনাক্ত করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং আরও ভালো ফলাফল পাবেন। ৪০ বছরের বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি দুই বছরে অন্তত একবার এবং ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর চক্ষু পরীক্ষা করানো উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *