বরিশালে হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু; হাসপাতালে রোগীর ভিড় বৃদ্ধি
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে চলতি মাসে জেলাটিতে এই রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স ১৪ মাস এবং অন্যজনের বয়স তিন বছর, যাদের অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় ও তীব্র নিউমোনিয়ার জটিলতা নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় আকস্মিকভাবে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালের আইসোলেশন ও শিশু ওয়ার্ডে হাম এবং এর আনুষঙ্গিক উপসর্গ নিয়ে অর্ধশতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার ফলে সাধারণ শয্যা উপচে পড়ে মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৃত এবং আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) থেকে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়েছিল, যা এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রত্যন্ত চরাঞ্চল এবং সচেতনতার অভাব রয়েছে এমন এলাকাগুলোতে দ্রুত মেডিকেল টিম পাঠানো হচ্ছে যাতে ঘরে ঘরে গিয়ে সম্ভাব্য আক্রান্তদের চিহ্নিত করা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ করা যায়। বরিশালের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলাজুড়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালুর পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং মায়েদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন শিশুদের শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা, সর্দি-কাশি বা লালচে ফুসকুড়ি দেখামাত্রই নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও যথাসময়ে টিকা প্রদান ও পুষ্টি নিশ্চিত করলে এই অকাল মৃত্যু সম্পূর্ণরূপে রোধ করা সম্ভব।
