বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে আবেগপ্লুত হয়ে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে সংখ্যার সমীকরণে ফল কার্যত নির্ধারিত। ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। সংসদে বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন। সংখ্যার এই ব্যবধানের কারণে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া কার্যত নিশ্চিত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বঙ্গভবনই হবে তাঁর ঠিকানা।
এরআগে জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বারবার কেঁদেছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা।
সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন এবং মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুলও ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে।
এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তার কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
তিনি জানান, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।
বঙ্গভবনে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার-পাঁচবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল। এতে পুরো সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজ ঐতিহাসিক একটি দিন। অনেক মূল্য দিয়ে আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি। এ জন্য তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের দুঃসময়ে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কখনো হাল ছাড়েননি। বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবন্দীও হতে হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলকে জয়ী করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বৃহস্পতিবারের নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সবাইকে শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের দূরত্ব যেন আর না বাড়ে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এ নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। গত সংসদ নির্বাচনে অনেকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে কেউ দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান না নেন, সে বিষয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্য এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তারেক রহমানের সাংগঠনিক নির্দেশনার মধ্য দিয়ে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
