October 23, 2026

Khabar BD

Bangladesh Updates

কায়রোর দূতাবাসে স্মরণ করা হলো মরমি সাধক লালন সাঁইকে

প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরের রাজধানী কায়রোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলার মরমি সাধক, মানবতাবাদী দার্শনিক ও কালজয়ী বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৭তম তিরোধান দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ১৯ অক্টোবর সোমবার দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লালনের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা তুলে ধরা হয়।

এই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। জি এম মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রেজাউল করিম, মাসুদ করিম চৌধুরী, নোমান করিম আজহারী এবং দূতাবাসের শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন।

বক্তারা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে লালন সাঁইয়ের অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, লালনের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের সব বিভেদ অতিক্রম করে মানবতা, সাম্য, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। বর্তমান বিশ্বের জটিল পরিস্থিতিতেও উদারতা, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রচারে লালন দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে বাংলার এই মহান আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “ফকির লালন সাঁইয়ের দর্শন ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানবতার জয়গান গায়। ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা পেরিয়ে তাঁর শিক্ষা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহিষ্ণু ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে আজও আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।” তিনি নতুন প্রজন্মের মাঝে লালনের অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন।

আলোচনা পর্ব শেষে বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ লালনগীতি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হয়। এছাড়া শিশুদের পরিবেশিত নৃত্য এবং লালনের জীবন ও দর্শনের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে মিশরের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে আপ্যায়ন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *